Home / বাংলা হেল্‌থ / আসুন জেনে নেই খেজুর আমাদের কি কি উপকার করে

আসুন জেনে নেই খেজুর আমাদের কি কি উপকার করে

হাজার হাজার বছর পূর্বে যখন খেজুর আবিষ্কৃত হয় তখন থেকেই তা নিরাময় ক্ষমতা সম্পন্ন বলে পরিচিত। পরবর্তীতে বিজ্ঞানসম্মত ভাবেও তা প্রমাণিত হয়। এই ফলটি অত্যন্ত সুস্বাদু বলে বেশীরভাগ মানুষ এটি খেতে পছন্দ করেন। আমাদের দেশে রোজার সময় ইফতারিতে খেজুর খাওয়া হয়। খেজুর অনেক পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক খেজুরের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা। খেজুর, আরবিতে যাকে বলা হয় তুমুর। সৌদি আরবে রয়েছে নানা জাতের খেজুর। নামও বিভিন্ন। যেমন আজওয়া, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, মুসকানি, খালাস, ওয়াসালি, বেরহি, শালাবি, ডেইরি, মাবরুম, ওয়ান্নাহ, সেফরি, সুক্কারি, খুদরি, রুথান, বারহি ও মরিয়মসহ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ হাজার জাতের খেজুর রয়েছে।

আজওয়া: মদিনা শরিফের সর্বোত্তম খেজুর। এটা দেখতে কালো, বিচি ছোট এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।সাফাওয়ি: এই খেজুর নরম। গাঢ় বাদামি রঙের লম্বাটে। খেতে মোটামুটি মিষ্টি।আমবার: মদিনার বিখ্যাত খেজুরগুলোর মধ্যে একটি। খেতে কম মিষ্টি।সুগায়ি: এই খেজুর বড় ও ছোট দুই আকারেই হয়। মুখে দিলে একটু কস লাগে। খেতে মিষ্টি। বাইরের আবরণ নরম।মরিয়ম: লালচে রঙের এই খেজুর এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।আনবারা: হালকা লালচে কালো রঙের এই খেজুরটি খুব মিষ্টি এবং আকারে বড় হয়।সুক্কারি: রসালো লালচে রঙের এই খেজুরটি দেড় ইঞ্চির মতো লম্বা এবং খেতে খুব সুস্বাদু।রুথান: টকটকে লাল রঙের বড় সাইজের হয়ে থাকে।বারহি: খুব মিষ্টি এবং বড়ই (কুল) আকারের হয়ে থাকে এই খেজুরটি। সাধারণত কাঁচা অবস্থায় এই খেজুরটি খেতে হয়।

খেজুরের মধ্যে প্রাকৃতিক আঁশের আধিক্য থাকায় এর উপকারিতা ও গুরুত্ব অনেক। গবেষকদের মতে, শুকনা খাবারের মধ্যে খেজুরেই সবচেয়ে বেশি পলিফেনল থাকে। বিপজ্জনক অনেক রোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে পলিফেনল। খেজুরের চেয়ে ভালো পটাশিয়াম উৎস আর হয় না। এটা সোডিয়ামেরও ভালো উৎস। কিডনি ও স্ট্রোক জটিলতা এড়াতে এর ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসকরা প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।খেজুরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণে তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আইরন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান যা সুস্বাস্থের জন্য অতি দরকারি।স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে, হৃদরোগীদের জন্য খেজুর বেশ উপকারী, খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী, হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক, খেজুর খাবারের রুচি বাড়ায়, খেজুর ত্বক ভালো রাখে, খেজুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পক্ষাঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী, খেজুর ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে, খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটে, প্রসব হতে সাহায্য করে, প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়, খেজুরে কোলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়, নারীদের শ্বেতপ্রদর ও শিশুর রিকেট নিরাময়ে খেজুরের কার্যকারিতা অনেক। এছাড়া খেজুর পাতলা পায়খানা বন্ধ করে, খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমার জন্য উপকারী।উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাটসম্পন্ন খেজুর জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে, যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী, খেজুর লৌহসমৃদ্ধ ফল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, রক্তে লৌহিত কণিকার প্রধান উপাদানের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।খেজুর লৌহসমৃদ্ধ বলে এই রক্তশূন্যতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে সেই সাথে শিশুদের জন্যও খেজুর খুব উপকারী।

Check Also

পু,রুষের হা,রানো শ,ক্তি ফিরে পেতে ল,জ্জাবতী গাছ!

আমাদের অতি পরিচিত একটি গাছ লজ্জাবতী আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা। এটি একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *